শুধু রাজনীতি নয়, মূল্যস্ফীতিও বড় ক্রীড়নক

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯২ সালে নির্বাচনে বিল ক্লিনটনের প্রচার কৌশলবিদ ছিলেন জেমস কারভিল। তার একটি উক্তি এখনো বিখ্যাত হয়ে আছে—‘মার্কিন নির্বাচনে মূলত প্রাধান্য পায় অর্থনীতি আর বোকারা!’

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯২ সালে নির্বাচনে বিল ক্লিনটনের প্রচার কৌশলবিদ ছিলেন জেমস কারভিল। তার একটি উক্তি এখনো বিখ্যাত হয়ে আছে—‘ওহে বোকা, মার্কিন নির্বাচনে মূলত প্রাধান্য পায় অর্থনীতি!’ এবারো তাই হয়েছে, অন্য কোনো বিষয়ের চেয়ে অর্থনীতিকেই বেশি আমলে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা। নির্বাচনী প্রচারের সময় বিভিন্ন জনমত জরিপে আমেরিকানদের প্রায় অর্ধেকই জানিয়েছিলেন, চার বছর আগের তুলনায় তারা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে খারাপ অবস্থায় আছেন। সুতরাং দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে তারা কাকে চাচ্ছেন, তা অনেকটাই স্পষ্ট ছিল।

এডিসন রিসার্চের জাতীয় বুথফেরত জরিপের তথ্যে দেখা গেছে, প্রায় ৩১ শতাংশ ভোটার বলেছিলেন—অর্থনীতি তাদের প্রধান সমস্যা। আর ৩৫ শতাংশ ভোটার দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যারা অর্থনীতিকে প্রধান উদ্বেগ হিসেবে সামনে এনেছেন তাদের ৭৯ শতাংশই ভোট দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে, আর ২০ শতাংশের ভোট গেছে কমলা হ্যারিসের পক্ষে।

এদিকে গত কয়েক বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতি ভোটারদের স্পষ্ট উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভোটারদের ট্রাম্পের দিকে টেনেছে। ভোটারের অর্ধেকেরও বেশি বলেছেন, গত এক বছরে মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের বেশ আর্থিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এছাড়া প্রায় এক-চতুর্থাংশ বলেছেন, মূল্যস্ফীতি তাদের জন্য সবচেয়ে বড় কষ্টের কারণ। যারা মূল্যস্ফীতিকে ‘কিছুটা কষ্টের কারণ’ বলেছেন, তাদের ৫০ শতাংশ ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আর ৪৭ শতাংশ দিয়েছেন কমলাকে। মূল্যস্ফীতিকে যারা ‘বড় কষ্ট’ হিসেবে বিবেচনা করেছেন, তাদের মধ্যে ৭৩ শতাংশই ভরসা রেখেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর।

এডিসনের জাতীয় বুথফেরত জরিপের তথ্য দেখিয়েছে, দেশজুড়ে ৪৫ শতাংশ ভোটার বলেছিলেন, তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা চার বছর আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। ২০২০ সালে এ পরিসংখ্যান ছিল মাত্র ২০ শতাংশ। আর এসব ভোটারের ৮০ শতাংশই ট্রাম্পকে বেছে নিয়েছেন। মাত্র ১৭ শতাংশ ভোট দিয়েছেন কমলাকে।

আরও